নড়াইলের লোহাগড়ায় পলাশ বাহিনীর তান্ডবে অতিষ্ঠ জনজীবন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা।

মির্জা মাহামুদ হোসেন রন্টু নড়াইল:
নড়াইলের লোহাগড়ায় পলাশ বাহিনীর তান্ডবে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। পলাশ বাহিনীর অত্যাচারের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী।

জানা গেছে, নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলাধীন লাহুড়িয়া ইউনিয়নের অন্তর্গত হেচলাগাতী গ্রামের মোঃ মকবুলের ছেলে বহু অপকর্মের হোতা পলাশ বাহিনীর প্রধান এই পলাশ। সে কিশোর বয়স থেকেই বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ে। এলাকায় জমজমাট মাদকের আখড়া গড়ে তুলে কোমলমতি কিশোরদের প্রলুব্ধ করে সে তাদেরকে নিজের জালে জড়িয়ে নিয়েছে। এছাড়াও তার রয়েছে নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী। এই ক্যাডার বাহিনী দিয়ে এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চাঁদাবাজি শুরুকরেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক নারীকে ধর্ষণসহ ধর্ষণ চেষ্টারও অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এই পলাশ বাহিনী এতটাই বেপরোয়া যে এলাকাবাসী তাদের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে অমানষিক নির্যাতন করা হয় বলেও জানিয়েছে একাধিক ব্যক্তি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানায়, সম্প্রতি হেচলাগাতী গ্রামের মৃত আকরামের স্ত্রী জোসনা বেগমকে ধর্ষণ চেষ্টা, একই গ্রামের রজিবুলের স্ত্রীকে নির্যাতন ও কল্যাণপুর গ্রামের ময়নাকে জোর করে ধর্ষণ করার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হলেও সে থেকে গেছে প্রশাসনের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এতে করে এলাকাবাসী আরও বেশি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। অনেকেই মনে করছেন স্থানীয় প্রশাসনের উপর প্রভাব খাটিয়ে পলাশ বাহিনী বীরদর্পে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে এলাকায়।

পলাশের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণারও অভিযোগ রয়েছে। তার এই প্রতারণার জন্য দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামালাও চলমান। অসহায় চাকুরি প্রার্থীদের চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাদেরকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকাগুলো আত্মসাৎ করার তার পেশায় পরিণত হয়েছে। সঙ্খোজখালী গ্রামের আক্তার হোসেনের ছেলে মোঃ সেলিম আজাদকে চাকুরি দেওয়ার নাম করে বাড়িতে ডেকে এনে জিম্মি করে বেআইনি অস্ত্র ঠেকিয়ে ১৮ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছে বহু অপকর্মের হোতা এই পলাশ। এছাড়াও কল্যাণপুর গ্রামের মৃত হরসিত কীর্ত্তনীয়ার ছেলে রণ কীর্ত্তনীয়াকে বাড়ি থেকে নির্জন স্থান ডেকে নিয়ে তার কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা চাদা দাবি করে পলাশ। ভুক্তভোগী তার দাবিকৃত চাঁদা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে।

এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপরও তার নির্যাতনের মাত্রা চরমে পৌঁছে গেছে। তাদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত চাঁদা দাবি করে আসছে পলাশ ও তার বাহিনীর সক্রিয় সদস্যরা। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিসহ নারীদের ধর্ষণের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটাচ্ছে পলাশ বাহিনী।

বর্তমানে পলাশ বাহিনীর দৌরাত্ম এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, এলাকাবাসী তাদের অবৈধ অস্ত্রের ভয়ে সম্পূর্ণ জিম্মি হয়ে পড়েছে। তাদের দাবিকৃত চাঁদা পরিশোধে ব্যর্থ হলে নির্যাতন সহ্য করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। পলাশ ও তার বাহিনীর হাত থেকে নিস্তার পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সিরাজ ও এসআই আব্দুল জলিলের সাথে কথা হলে তারা জানান, উপযুক্ত প্রমাণ পেলে অচিরেই পলাশকে গ্রেফতারপূর্বক আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।