রাঙ্গাবালীতে ঘরে ঢুকে নির্যাতনের পর গৃহবধূকে গণধর্ষণ

আ.খ.ম রাকিব হোসাইন।
রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় এক গৃহবধূ (৩০) নিজগৃহে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরমার্গারেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পরিবারের দাবি, দুর্বৃত্তরা ওই গৃহবধূকে পাশবিক নির্যাতনের পর প্রথমে ধর্ষণ করে ও পরে টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূকে ওই রাতেই স্পিডবোটে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে তার পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে শনিবার সকালে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

এদিকে, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শাকিল (২০) ও আল হাদী (২২) নামের দুই তরুণকে শনিবার সকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চরমোন্তাজ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। নির্যাতিত গৃহবধূর স্বামী বলেন,”আসরের নামাজের আগে পার্শ্ববর্তী এলাকার বাজারে গিয়েছিলাম। রাত ৯ টার দিকে বাড়ি ফিরছিলাম, পথিমধ্যে মোবাইলে বাড়ি থেকে ফোন আসে। পরে কল ব্যাক করলে ফোনটি বন্ধ করে দেয়া হয়। বিষয়টি সন্দেহ হলে আমি দ্রুত বাড়িতে যাই। গিয়ে ছেলে-মেয়ের কান্নার শব্দ শুনে ঘরে ঢুকে দেখি, স্ত্রীর টেবিলের সাথে হাত বাঁধা। নাক-মুখ ও চোখ ওড়না দিয়ে বাঁধা। পরে চিৎকার দিলে লোকজন আসে। এরমধ্যে তার স্ত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। স্ত্রী অনেক অসুস্থ থাকায় দ্রুত গলাচিপা নিয়ে যাই। সেখান থেকে পটুয়াখালী নেয়া হয়।”
তিনি দাবি করেন, তার স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন এবং ধর্ষণ করা হয়েছে। পরে ঘর থেকে দেড় লাখ টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তিনজন জড়িত আছেন বলে তিনি তথ্য দিয়েছেন।

প্রতিবেশীরা জানান, ভিকটিমের অবস্থা গুরুতর ছিল। পরনের পোশাক এলোমেলো ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় তারা আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন বলে দাবী করেন।

রাঙ্গাবালী থানার ওসি মো. আলী আহম্মেদ বলেন, প্রকৃত ঘটনা জানতে আমি ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে এসেছি। ইতিমধ্যে জড়িত সন্দেহে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়। আমি ঘটনাস্থলে খুব শীঘ্রই যাব।

এ ব্যাপারে স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বললে তারা প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করেন।