শেখ রাসেল বেদনার এক মহাকাব্য শেখ রাসেল অসমাপ্ত স্বপ্নের নাম

ফাহিম হাসান সানি
বিশেষ প্রতিনিধি বাংলা খবর

রাসেল আছে সকল মায়ের দুচোখ ভরা জলে।রাসেল আছে ভোরে জাগা শিশুর কোলাহলে।

জাতি হিসেবে আমাদের দুর্ভাগ্য যে, ইতিহাসের কলংকজনক হত্যাকান্ডের নির্মম শিকার সেই দেবশিশুর হত্যাকারী আমরা নিজেরাই। ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর দিনটি চিরদিনের জন্য বিষাদ ভরা হয়ে রইল। আর কোন দিন প্রত্যুষে হাসবে না সূর্য । রাত জাগা পাখির ডানায় করে বিষাদ মাখা ভোর আসে প্রতি বছর।
দেবশিশুর আজ ৫৪ তম জন্মদিন। কিন্তু কোথাও কোন আলো নেই। সে সময় কতইবা বয়স ছিল তার? ১০ বছর । অথচ ঘাতকের বুক একটি বারের জন্যেও কাঁপল না।

পঁচাত্তরে ১৫ আগস্ট ঘাতকেরা বাংলাদেশকে ছায়া পাকিস্তান বানানোর স্বপ্নে বিভোর হয়ে বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে শিশু রাসেলকেও নির্মমভাবে হত্যা করে।

শেখ রাসেল বারবার মায়ের কাছে যেতে চেয়েছিল। আকুতি করেছিল, আমি মায়ের কাছে যাব । তার কান্নায় পাথর হয়তো গলে যায়। কিন্তু তাতে ঘাতকের নিষ্ঠুর মন গলেনি। তাদেরই একজন মায়ের কাছে চল বলে দোতলায় নিয়ে গিয়ে তাকে হত্যা করে। টেনে হিচড়ে উপড়ে নেয়ার সময় রাসেল ভয় পেয়ে বলেছিল, আমাকে হাসু আপার কাছে পাঠিয়ে দিন।

চিরতরে হারিয়ে গেল হাসু আপার কলিজার টুকরো । মা ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের নাড়ি ছেড়া ধন। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা দুজনেই ছিলেন বার্টান্ড রাসেলের ভক্ত। তার মানেই রেখেছিলেন ছোট্ট রাসেলের নাম। রাসেলের জন্মের সময় বঙ্গবন্ধু জেলে ছিলেন। যার কারণে শিশু রাসেল বাবাকে ভালোভাবে চিনত না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মৃতিকথায় রয়েছে, জেলখানায় পরিবারের সবাই বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করতে গেছেন। রাসেল এক পর্যায়ে বলে উঠল, হাসু আপা, তোমার আব্বাকে আমি একটু আব্বা বলি? এমন প্রশ্নে সে সময়ের উপস্থিত সবাইকে হতবাক হতে হয়েছিল। আর আজও রাসেলের এমন প্রশ্নে আমরা হতচকিয়ে যাই এবং বেদনাহত হই।

শেখ হাসিনার আদর-স্নেহেই বড় হয়ে উঠছিল রাসেল। এই ভাইটিকে হারানোর দুঃসহ বেদনা যে ভোলার নয়! এই দুঃখ ভার বুকে নিয়ে, উদ্‌গত কান্না চেপে দেশ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে তাকে। শেখ রাসেল আমাদের কাছে বেদনার এক মহাকাব্যের নাম। শেখ রাসেলের জন্মদিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক, আর অসহিষ্ণুতা নয়, আর অপরাধীদের প্রশ্রয় বা দায়মুক্তি নয়। বাংলাদেশ হোক সব শিশুর, সব মানুষের নিরাপদ বাসভূমি।