সৌদি আরবে বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘কাফালা প্রথা’ বাতিল হবে : সুফল যাবে প্রবাসীর ঘরে – বাংলা খবর

এইচ.এম.ফরিদুল আলম আশরাফী,আন্তর্জাতিক রিপোর্টার

সৌদি মানব সম্পদ মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এক ঘোষণায় জানিয়েছে, সৌদি আরবে কাফালা প্রথা শীঘ্রই বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে । নির্দিষ্ট কোন সৌদির মোয়াচ্ছাছা বা নামে থেকে বাইরে কাজ করা, বা তার নামে ব্যবসা করা, বিনিময়ে ওই সৌদি নাগরিক একটা লভ্যাংশ নেয়া মাসে-মাসে, এ প্রথাটি বিলুপ্ত করতে যাচ্ছে সৌদি মানব সম্পদ মন্ত্রণালয় ।
কাফালা প্রথা কী ?
কাফালা-এমন এক প্রথা, যেখানে যে কোন প্রবাসীই কোন না কোন সৌদি নাগরিকের নামে থেকে কাজ করবেন । অথবা তার নামেই ব্যবসা করবেন । বিনিময়ে তাকে দেবেন লাভের একটা অংশ প্রতিমাসে । কাফালা প্রথাতে নানাবিধ সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় প্রবাসীদের । অনেক ক্ষেত্রেই সৌদি নাগরিক বা কফিল প্রবাসীর অধিকার বা হক রক্ষা না করে, প্রবাসীর অর্থ লোপাট করে নিজেই লাভবান হন ।

কাফালা প্রথা বিলুপ্ত হলে প্রবাসীর কী লাভ ?

জনাব মুসলেহ উদ্দিন নিজের কফিলকে ১২ হাজার ৫শ’ রিয়াল দিয়েছিলেন ১ বছরের ইকামা নবায়নের জন্য । কফিল সেই অর্থ লোপাট করে দিয়েছেন । মুসলেহ উদ্দিনের ১ বছরের ইকামা নবায়ন আর হয়নি । মেয়াদ উত্তীর্ণ ইকামাধারী এখন মুসলেহ উদ্দিন । ইকামা নবায়নের জন্য পুনরায় ১২ হাজার ৫ শ’ অর্থাৎ টাকার অংকে প্রায় ৩ লাখ টাকার সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় করার মত সামর্থ মুসলেহ উদ্দিনের নেই । ফের বছর ঘুরতেই ১২,৫০০ শ’ অংক দাঁড়াবে ২৫ হাজার রিয়ালে । এই মোটা অংকের ভার বহন করতে না পেরে মুসলেহ উদ্দিন হয়তো অবৈধ অনিশ্চিত জীবনেই আটকা পড়ে যাবেন ।

মুসলেহ উদ্দিন একটি উদাহরণ মাত্র । আমাদের চেনা -জানা, অথবা অচেনা হাজার হাজার প্রবাসী মুসলেহ উদ্দিনের মত ‘কফিলের অন্যায়ের শিকার হয়ে’ অবৈধ হয়েছেন ।

তাই, কাফালা বা কফিল প্রথা বাতিল হলে , প্রবাসীরা সরাসরি শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধিনে চলে যাবেন । শ্রম মন্ত্রণালয়-ই হবে তখন প্রবাসে প্রবাসীর অভিভাবক । শ্রম মন্ত্রণালয় নির্দিষ্ট অর্থ অবশ্যই নেবেন , তবে সেক্ষেত্রে প্রবাসীর অর্থ লোপাট এবং অবৈধ হবার সম্ভাবনা নেমে আসবে প্রায় শূন্যের কোঠায় ।

সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়, দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টির উপর বিচার বিশ্লেষণ করে , শেষ পর্যন্ত কাফালা প্রথা বিলুপ্তির ঘোষণা খুব দ্রুত কার্যকর করবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ।

প্রবাসী ব্যবসায়ীরা পাবেন বিস্তর সুফল :
সৌদি প্রবাসী ব্যবসায়ীদের একটা বিরাট অংশ ভয়ে তটস্ত থাকেন, তার কফিল কখন না জানি অন্যায় আবদার করে মোটা অংকের টাকা চেয়ে নেয় । অথবা কখন জানি তাকে বঞ্চিত করে নিজেই ব্যবসার দখল নিয়ে নেয় । যেহেতু দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কফিলের নামে, সেহেতু এরকম ঘটনায় আইনের সহায়তাও খুব বেশি পাওয়ার সুযোগ থাকে না ।

কাফালা প্রথা বিলুপ্তির পর, ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় নিজেদের কাগজপত্র নিজেরাই করে নিতে পারবেন । এবং নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হারানোর ভয় আর থাকবে না ।

ইকামা নবায়ন, স্বাধীনভাবে এক্সিট -রিএন্ট্রি ভিসা গ্রহণ, ইত্যাদি অনেক কাজই প্রবাসী কফিলের কোন বাধ্যবাধকতা ছাড়া করতে পারবেন ।

শ্রম এবং মানব সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঘোষণামতে, ২০২১ সনের প্রথম ৬ মাসেই বিলুপ্তির ঘোষণা কার্যকর করা হবে ।